মঙ্গলবার ২৭ অক্টোবর ২০২৬ - ১৪:২০
সর্বোচ্চ নেতার দৃষ্টিতে ‘মেধাবী ও বিশিষ্ট ব্যক্তি’ কারা? জ্ঞান থাকলেই কি কেউ মেধাবী হিসেবে বিবেচিত হন?

ইসলামী বিপ্লবী সর্বোচ্চ নেতার বার্তায় ‘মেধাবী ও বিশিষ্ট ব্যক্তি’ হওয়ার ধারণাকে কেবল একটি উপাধি বা ব্যক্তিগত মর্যাদার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়নি; বরং এটিকে নিজের যোগ্যতার যথাযথ ব্যবহার এবং সমাজের ভবিষ্যতের প্রতি দায়িত্ববোধের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হয়েছে।

হাওজা নিউজ এজেন্সি রিপোর্ট অনুযায়ী, নিচে মেধাবী ও বিশিষ্ট ব্যক্তি হওয়ার প্রকৃত অর্থ এবং এ ধরনের ব্যক্তির বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে সর্বোচ্চ নেতার বার্তার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ তুলে ধরা হলো।

মেধাবী ও বিশিষ্ট ব্যক্তি কারা?

মেধাবী ব্যক্তি এমন কেউ নন, যিনি কেবল অসাধারণ প্রতিভা ও বুদ্ধিমত্তার অধিকারী হওয়ার কারণে নিজেকে অন্যদের থেকে আলাদা মনে করেন এবং শুধু ক্ষণস্থায়ী ও ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষা নিয়েই চিন্তা করেন। বরং প্রকৃত মেধাবী ব্যক্তি হলেন তিনি, যিনি নিজের প্রতিভার বিকাশ নিয়ে সচেতন থাকেন, নিজেকে সমাজের একজন কার্যকর ও প্রভাবশালী সদস্য হিসেবে বিবেচনা করেন এবং একই সঙ্গে নিজের ও সমাজের উন্নয়নে তাঁর প্রতিভা ও সক্ষমতাকে কাজে লাগান।

ইরানের মেধাবীরা প্রমাণ করেছেন যে জ্ঞান ও প্রতিভাকে দেশের জনগণ এবং রাষ্ট্রের বাস্তব সমস্যাগুলোর সমাধানের হাতিয়ারে পরিণত করা সম্ভব।

একজন মেধাবী ব্যক্তির যে বৈশিষ্ট্য থাকা উচিত

মেধা ও প্রতিভা মহান আল্লাহর একটি নিয়ামত ও বিশেষ অনুগ্রহ। এর মূল ভিত্তি হলো প্রতিভা ও বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতা। ইরানি জাতি, বিশেষত দেশটির তরুণসমাজ, আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রদত্ত এই বিপুল নিয়ামত ও সম্পদের অধিকারী।

বিবেক ও আল্লাহর প্রতি আনুগত্যের দাবি হলো, মানুষ যেন যথাযথভাবে আল্লাহর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করে। আর যখন অন্তর, মুখের কথা ও কর্ম-সব ক্ষেত্রেই এই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ পায়, তখন সেই নিয়ামতের পূর্ণতা ও উৎকর্ষ অর্জনের পথ সুগম হয়।

জনগণের মধ্যে যারা সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন, তাঁরাও সমাজের মেধাবী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত

তবে মেধা ও বিশিষ্টতার পরিধি শুধু জ্ঞান-বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, খেলাধুলা কিংবা বিভিন্ন ধরনের দক্ষতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। ইতিবাচক ও কাঙ্ক্ষিত যেকোনো ক্ষেত্রে অসাধারণ যোগ্যতা অর্জনও একজন মানুষকে মেধাবী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিতে পরিণত করতে পারে।

বর্তমানে আমরা এই দেশের এমন কিছু শ্রেষ্ঠ মানুষের মধ্যে মেধা ও বিশিষ্টতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত দেখতে পাচ্ছি, যাঁরা বৃহত্তর লক্ষ্যকে সামনে রেখে নিজেদের প্রিয় মাতৃভূমির পবিত্র পতাকাকে সমুন্নত রাখার জন্য নিরলস সংগ্রাম করে যাচ্ছেন। তাঁরা হলেন দূরদর্শিতা ও সংগ্রামের ক্ষেত্রে অনন্য প্রতিভার অধিকারী।

আমরা ‘রিজআলি খাজাভি’ এবং ‘আলি লান্দি’-র মতো ব্যক্তিদেরও মেধাবী ও বিশিষ্ট মানুষ হিসেবে বিবেচনা করি। তাঁদের নাম সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রবেশদ্বারে লিপিবদ্ধ করা উচিত।

সমাজের এ ধরনের উজ্জ্বল ব্যক্তিত্বদের মধ্যে রয়েছেন শহীদ ও আত্মত্যাগী মানুষেরা, যাঁরা নিজেদের জীবন ও সুস্থতা বিসর্জন দিয়ে ইসলামী ইরান এবং এই প্রিয় জাতির ভবিষ্যতের ওপর অসাধারণ প্রভাব রেখেছেন। তাঁরা এক ও অদ্বিতীয় আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর দাসত্বের পদক লাভ করেছেন।

সূত্র: ইরানের সর্বোচ্চ নেতার পক্ষ থেকে মেধাবী ব্যক্তি এবং বিজ্ঞান ও ক্রীড়াক্ষেত্রে পদকজয়ীদের উদ্দেশে প্রদত্ত বার্তা, ৪ আবান ১৪০৫ ফারসি সাল (২৬ অক্টোবর ২০২৬)।

Tags

আপনার কমেন্ট

You are replying to: .
captcha